রামুতে লাল-সবুজের শাড়িতে হাজারো ছাত্রীর জাতীয় সংগীত পরিবেশনঃ এটা অনুসরণীয় এক দৃষ্টান্ত

0
34

গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস দেশব্যাপী পালিত হয়েছে। অনেকটা উৎসব মূখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। নানান আয়োজনে দিনটি ঘটা করে পালিত হল। এটা হওয়া উচিত।
কারণ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ইতিহাস যে কতটা বীরত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক এই সম্পর্কে জ্ঞান না রাখলে কাউকে বুঝানো যাবেনা।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূর্তপ্রতীক হল সেদেশের জাতীয় পতাকা। বাংলাদেশেরও একটি জাতীয় পতাকা আছে। লাল-সবুজের সমাহারে আমাদের জাতীয় পতাকা তৈরি। এর একটা অর্থ এবং তাৎপর্য রয়েছে। ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে যাকে বলা হয়ে থাকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

আমাদের জাতীয় পতাকার মধ্যভাগের লাল বৃত্তটি সেই এক সাগর রক্তকে ধারণ করেছে। লাল বৃত্তের চারদিকে গাঢ় সবুজ রং বাংলাদেশের চিরায়ত প্রকৃতিকে ধারণ করেছে। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃতির চিরায়ত রং হচ্ছে সবুজ। বাংলাদেশের প্রকৃতিতে সর্বত্র কেবল সবুজের সমারোহ। তাই আমাদের জাতীয় পতাকা একদিকে এদেশের মানুষের অসীম ত্যাগ অপরদিকে আমাদের দেশকে ধারণ করেছে।

এদেশের স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যু পরবর্তী তাঁর মরদেহের কফিন জাতীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। কারণ এই দেশ, এই পতাকা অর্জন কেবল তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে। মরণযাত্রায় এটা তাঁদের প্রাপ্য। অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণযাত্রায় অনেক সময় এই সম্মান দেওয়া হয়না এমন খবর যখন আমরা শুনি তখন এটা আমাদের খুব আহত করে।

এবারের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে আমাদের কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছিল। এটা উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়াতে এই বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ছাত্রী সারা বছর ধরে থাকে। বর্তমান এক হাজারেরও অধিক ছাত্রী উক্ত বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। স্বাধীনতা দিবসে সবাইকে লাল-সবুজের শাড়ি পরিয়ে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। ১০০ ফুট দীর্ঘ বিশিষ্ট জাতীয় পতাকা নিয়ে এই সংগীত পরিবেশন করা হয়। এটা অসাধারণ এক মুহূর্ত ছিল।

এই ধরণের উদ্যোগ এই প্রজম্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং দেশাত্ববোধ সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের বর্তমান প্রজম্মের একটা বড় অংশ নিজের দেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত সম্পর্কে জানেনা। একটা বড় অংশ জাতীয় সংগীত গায়না। এককথায় এই দেশ, ভাষা এবং পতাকা কি করে আমাদের হল তা তারা জানেনা, জানতে চায়ও না। দেশপ্রেমহীন এবং দেশাত্ববোধহীন হয়ে বেড়ে ওঠা এই সন্তানেরা দেশের জন্য ভালো কিছু করা তো দূরের কথা উল্টো মন্দটা করতেও পিছপা হবেনা। এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।

তাদের মাথা মস্তিষ্কে এটা ঢুকিয়ে দিতে হবে যে, আজকে আমরা যা পেয়েছি, যা ভোগ করছি তার সকলই সম্ভব হয়েছে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে। তাই সবার আগে দেশ বড়।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কিংবা রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সৃষ্টিলগ্ন থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। এটা প্রথম নজির। রামু উপজেলার নির্বাহী অফিসার এবং পদাধিকার বলে উক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিঠির সভাপতি জনাব মোঃ শাজাহান আলী মহোদয় এই প্রথম এমন ভাল এবং যুগোপযোগী একটা উদ্যোগ নিলেন। এটা সবার জন্য অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আমরা মনে করি। আমরা তাঁকে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সম্পাদক
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here