পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
2

অনলাইন ডেস্কঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হলো পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। রোববার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মাওয়া প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে রেলসংযোগ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পদ্মা সেতুর নামফলক, সেতুর ৬০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি এবং মাওয়া-কান্দিপাড়া-জসোলদিয়া এলাকায় ১ হাজার ৩০০ মিটার নদীতীর স্থায়ী সুরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সেনাবাহিনী প্রধান, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা, পদ্মা সেতু ও রেলসংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক র্কমকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রেলসংযোগ প্রকল্পের মডেল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর পর্যন্ত দুই অংশে রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা-যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার মেইন লাইন, ঢাকা-গেণ্ডারিয়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ডাবল লাইন, লুপ, সাইডিং ও ওয়াই-কানেকশনসসহ মোট ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু দিয়ে জাজিরা ও শিবচর হয়ে মাওয়া ও ভাঙার মধ্যে রেলসংযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। রেলপথটি নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পের অর্থায়নে করছে চায় না এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ সহায়তা দিবে ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ। বাকি ১৮ হাজার ২২১ কোটি ৪৪ টাকা ব্যয় হয়ে সরকারি ফান্ড থেকে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলপথ নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের প্রথম অংশে ঢাকা-ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬ জেলায় ৩৫৮ দশমিক ৪১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টে (সিএসসি) কাজের সহায়তা ও তত্ত্বাবধান করছেন বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে কর্মকর্তা বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর সার্বিক অগ্রগতি ৬০ শতাংশ এবং মূল সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। সেতুর ৫ম স্প্যান স্থাপন করায় সেতুর মূল কাঠামোর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সেতুটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপাদানে নির্মিত হচ্ছে। সেতুটি স্টিল এবং কনক্রিট কাঠামোয় তৈরি হচ্ছে এবং যানবাহন উপরের ডেক দিয়ে এবং রেল নিচের ডেক দিয়ে চলাচল করবে। সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলীয় ১৯ জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সেতু নির্মাণে অনুমিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে এই পর্যন্ত ১২ হাজার ৯৭২ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা (যাত্রাবাড়ী)-মাওয়া এবং পাছচর-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ৩ মে একনেকে অনুমোদন করা হয়। ৫১ কিলোমিটার হাইওয়ে আধুনিক যান চলাচলের ডিজাইনে দুই লেন থেকে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ দশমিক ২৯ কোটি টাকা। এতে হাইওয়ের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত পৃথক লেন এবং হাইওয়ের মাঝখানে ৫ মিটার প্রশস্ত সড়কদ্বীপ রয়েছে। এই সড়কদ্বীপ ব্যবহার করে মেট্রো রেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪টি কালভার্ট, ২০টি আন্ডারপাস, ৪টি ব্রিজ, ২৫টি ছোট ব্রিজ, ৫টি ফ্লাইওভার, ২টি ক্রসিং, ৪টি রেলওয়ে আন্ডারপাস রয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ার পর এটি এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পরে মাওয়া টোল প্লাজা সংলগ্ন মাওয়া গোলচত্বরে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর জাজিরা অংশ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রথমে সেতুর অগ্রগতির কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি রেলসংযোগ (জাজিরা অংশে) কাজের উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here