প্রাথমিকে ফের চালু হচ্ছে ‘হলদে পাখি’

0
0

শিক্ষা ডেস্কঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফের চালু হচ্ছে ‘হলদে পাখি’দের কার্যক্রম। ছাত্রীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তীতা ও শিশুকাল থেকেই গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প তৈরি করছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে হলদে পাখি কার্যক্রম সম্প্রসারণ’। প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রীদের বয়সভিত্তিক একে অপরের সাহায্যে দেশে-বিদেশে গার্ল গাইডদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে ২০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হলদে পাখির কার্যক্রম চলছিল। কার্যক্রমটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের খসড়া ডিপিপি (ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান) তৈরির যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। ডিপিপি চূড়ান্ত হলে একনেকের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।’

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রাথমিক স্তরে ‘হলদে পাখি’র কার্যক্রম বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন তদারকি করে আসছিল। পরে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও গণশিক্ষা বিভাগকে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন হওয়ার পর থেকে এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায় এবং গার্লস গাইডের কার্যক্রম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে থেকে যায়। ২০০০ সালের পর থেকে প্রাথমিকে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন মূলত মেয়েদের বয়সের ভিত্তিতে চারটি শাখায় বিন্যাস করে থাকে। এর মধ্যে হলদে পাখি (৬-১০ বছর), যার মূলমন্ত্র সাহায্য করা; গার্লস গাইড (১০-১৬ বছর), যার মূলমন্ত্র সদা প্রস্তুত থাকা; রেঞ্জার (১৬-২৪ বছর), যার মূলমন্ত্র সমাজসেবা; যুবনেত্রী গাইড (২৪-৩০ বছর), যার মূলমন্ত্র সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা এবং ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসরণ।

প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। যার বাস্তবায়নকাল আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে জুন ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে থাকবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয় লাখ ৬০ ছাত্রীদের গাইডিং কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। অর্থাৎ ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার হলদে পাখির ঝাঁক গঠন করা হবে। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন শিশু ছাত্রী থাকবে।

গত ১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে হলদে পাখির কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ডিপিপিতে এক জন পিএ কাম-কম্পিউটার-অপারেটর এর স্থলে চার জন কম্পিউটার অপারেটর এর পদের সংস্থান রাখা। প্রকল্পের নির্ধারিত জনবলে সহকারী পরিচালকের পদবি এবং তার বেতন স্কেল ষষ্ঠ গ্রেডের পরিবর্তে নবম গ্রেডে নির্ধারণ করা। হিসাব রক্ষক প্রেষণে নিয়োগের পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগের সিন্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ১১টি এবং আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ১০টি পদের সংস্থান রাখার ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে সম্মানী হিসেবে ৪০ হাজার ‘বিজ্ঞ পাখিকে’ মাসিক ২০০ টাকা হারে বিতরণের যৌক্তিকতা ডিপিপিতে উল্লেখ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কম্পিউটার বিষয়ে এক দিনের প্রশিক্ষণের পরিবর্তে পাঁচ/সাত দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার সিন্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here