অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব বিল লোকসভায় পাস, উত্তরপূর্বাঞ্চলে উত্তেজনা

0
0

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
জোরালো বিরোধিতার মুখেও ভারতের লোকসভায় পাস হয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের প্রস্তাব সম্বলিত সংশোধনী বিল। সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিলটি অনুমোদন পাওয়ার খবর জানায় এনডিটিভি। অমুসলিম শরণার্থীদের তালিকায় আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, শিখ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষরাও। বিলটি পাসের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হয়ে কেউ ভারতে থাকার আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবে।

প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস এবং বামপন্থি দলগুলোসহ ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ দল এ বিলের বিরুদ্ধে জোরাল আপত্তি জানিয়েছে। এমনকি উত্তরপূর্বাঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মিত্র দলগুলোও এ বিলের বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, এ বিল ‘ভারতীয় সংবিধানের মূল ধারার পরিপন্থি’।

বিল পাসের সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো। এনডিটিভি জানায়, নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল-২০১৬’র বিরুদ্ধে মঙ্গলবার উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে দিনব্যাপী ধর্মঘট ও সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের ক্ষমতাসীন জোট ন্যাশনাল ডেমেক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে এর আগে সোমবার জোটের মিত্র আসামের দল ‘অসম গণ পরিষদ’ জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

ভারত সরকার বিতর্কিত এ বিল মঙ্গলবার লোকসভায় উত্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশেষ করে উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার বিলটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিবাদস্বরূপ আসামে বিজেপি’র মুখপাত্র মেহদি আলম বোরা পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।

আসামের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বলছে, এ বিলের কারণে বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ আসামসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে আশ্রয় পাবে। অর্থাৎ, ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ড লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ থেকে ১৯৭১ সালের মার্চের পর ভারতে গেলেও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবে অবৈধ হিন্দু শরণার্থীরা ।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে অবৈধ শরণার্থীদের নিয়ে স্থানীয়দের জোরাল আপত্তি আছে। তারা শরণার্থীদের বের করে দিতে চায়। আসামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বহিরাগতদের নিজস্ব এলাকায় আশ্রয় দিতে বরাবরই প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছে। মঙ্গলবার বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রায় অচল হয়ে পড়ে আসাম।

যদিও বিলটি নিয়ে লোকসভায় বিতর্কের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেছেন, “পুরো দেশ নিপীড়িত ওইসব শরণার্থীর বোঝা বহন করবে। আসামকে একা পুরো বোঝা বহন করতে হবে না। ভারত সরকার এজন্য রাজ্য সরকার এবং আসামের জনগণকে সব ধরনের সাহায্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) আইনে পরিণত হলে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে পালানো মানুষদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। এ সুবিধা পাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং পার্সি ধর্মের মানুষেরা।

বিরোধীপক্ষের অভিযোগ, বিলের সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দেওয়ার পরও ‘সরকার একে নিরপেক্ষ বলে দাবি করছে।

এর জবাবে রাজনাথ বলেন, “কেউ কেউ বলছে কেন খ্রিস্টানদেরও এই বিলের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অথচ তারাও দেশভাগের পর থেকে নিপীড়নের শিকার। যে কারণে আমরা সংশোধন বিলে তাদেরও রেখেছি। এর থেকে ধর্ম নিরপেক্ষ বিল আর কী হতে পারে?”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here