নাইক্ষ্যংছড়িতে রাত পোহালেই ভোটের লড়াই

0
9

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি। নির্বাচনী সব সরঞ্জাম ইতিমধ্যে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ২৫টি ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিজিবি সদস্যরা থাকবেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর ছালেহ বলেন, ‘২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি ভোটকন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্মন্ন করার লক্ষ্যে সহিংসতা প্রতিরোধ ও বহিরাগতদের আনাগোনা ঠেকাতে উপজেলার দশটি স্থানে পুলিশের অস্থায়ী চল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।’

এবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকলেও ভোটারের সরব উপস্থিতি থাকবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে, কিংবা কার অতীত কী রকম? শেষ মুহুর্তে এ ধরনের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ভোটাররা।

নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম কালাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত তারেক বলেন, এখানে সংসদ নির্বাচন হলেও তা জমেনি। উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীরা অংশ না নিলেও সত্যিকারের নির্বাচনী আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। সদর ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের ভোটার শফিকুর রহমান (২২) বলেন, ‘এলাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে যে প্রার্থী ভূমিকা রাখবেন, তাঁকেই আমরা ভোট দেব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ভোটার ৩৭ হাজার ৪৯২। ভোট কেন্দ্র ২৫টি।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীহ নেতা আবু তাহের (মোটরসাইকেল), চোচু মং মার্মা (উড়োজাহাজ) ও ফরিদুল আলম (আনারস)। তবে মূল লড়াইয়ে আছেন অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ ও আবু তাহের।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান (তালা), যুবলীগ নেতা মংলা মার্মা (টিউবওয়েল), শাজাহান কবির (টিয়া পাখি) ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন (চশমা)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মংলা মার্মা, ইমরান ও শাজাহানের মধ্যে ত্রিমূখি লড়াই হবে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন- বিএনপির বহিস্কৃত নেত্রী হামিদা চৌধুরী (ফুটবল), প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রী শামীমা আক্তার (প্রজাপতি) ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ওজিফা খাতুন রুবি (কলসি)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে হামিদা চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ বলেন, ‘দলের মনোনয়ন ও উপজেলাবাসীর অনুগ্রহে এবার তিনি এ পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হয়ে উপজেলাবাসীর সেবা করতে চান।’ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তাহের বলছেন- তাঁর পক্ষে গোপনে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরাও কাজ করছেন। তাই জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here