পাহাড়ে রঙিন উৎসব

0
4

পাহাড়বার্তা ডেস্কঃ
চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অন্যতম সামাজিক উৎসব বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। উৎসবের তৃতীয় দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিনে এ উৎসবে নতুনমাত্রা যোগ করেছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই। উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে।

পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে সম্প্রীতির আহ্বান খাগড়াছড়ি মেতেছে সাংগ্রাই উৎসবে। মারমা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে সাংগ্রাই উৎসব। উৎসবকে ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় আয়োজন করা হয়েছে ওয়াটার ফেস্টিবল বা জলকেলি উৎসব।

নববর্ষের প্রথম দিন রোববার বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বটতলা এলাকায় প্রদীপ প্রজ্বলন ও বেলুন উড়িয়ে সাংগ্রাই উৎসবের উদ্বোধন করেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদ এ উৎসবের আয়োজন করে।

এ সময় খাগড়াছড়ির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হামিদুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল গাজী মাহমুদ সাজ্জাদ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান ও পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল ছাড়াও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, আগামী দিনে এ সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। জলোৎসবের মাধ্যমে পুরনো বছরের সকল পাপ মুছে ফেলারও আহ্বান জানান তিনি।

এরপরপরই মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বটতলা থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ির জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো সেখানে গিয়ে শেষ হয়। পরে মারমা উন্নয়ন সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল পোশাকে মারমা তরুণ-তরুণীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ফেস্টিবল বা জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেন।

এছাড়া সাংগ্রাই উৎসবকে সামনে রেখে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, পিঠা উৎসব, মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও ওপেন কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here