ব্রণ থেকে দূরে থাকতে

0
4

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ব্রণের কারণ শুধু বয়ঃসন্ধি কাল নয়। সঠিক জীবনযাপন না করলে যে কোনো বয়সে ব্রণ হানা দিতে পারে।

ধারণা আছে যে ব্রণ বুঝি শুধু বয়ঃসন্ধিতেই হয়। তবে রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বিশেষজ্ঞদের তথ্য নিয়ে জানানো হয়, ব্রণ এখন আর শুধু একটা ‘টিনএইজ’ সমস্যা নয়।

খাদ্যাভ্যাস, বাড়তে থাকা কাজের চাপ, কমতে থাকা ঘুমের সময় বেচারা হরমোনগুলোকে পাগল করে ফেলে, ফলাফল ব্রণ হয়ে মুখে ঝুলে থাকে।

তবে জীবনযাপনের রীতিনীতি সংশোধনের মাধ্যমে ব্রণ দমিয়ে রাখা যায়।

ক্রিমের আস্তরণ ক্ষতি করে:
বাজারে নানান ত্বক রক্ষার জন্য নানান ধরনের ক্রিম পাওয়া যায়। এই ক্রিমগুলো ত্বকে যে কোনো উন্নতি ঘটায় না তাও নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন ক্রিমের আস্তরণ ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে। ফলে ব্রণ হতে পারে। তাই কারও ত্বক যদি মিশ্র থেকে তৈলাক্ত ধরনের হয় তাদের ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

মানসিক চাপ:
ভারতীয় মনরোগ বিশেষজ্ঞ সীমা হিংগোরানি জানান, মানসিক চাপের ফলে করটিসল এবং অ্যানড্রোজেনস নামক হরমোনের আধিক্য বেড়ে যায়। এই দুই হরমোন ব্রণ উৎপন্ন করে। কারও যদি ব্রণ হওয়ার প্রবণতা থাকে, তাহলে কাজের চাপ এটাকে আরও বাড়ায়। বিষণ্ণতা এবং দুশ্চিন্তাও ব্রণ উসকে দেয়।

সঠিক উপায়ে মুখ পরিষ্কার:
কিছু সাবানে ক্ষারের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো ব্রণ তৈরি করে।

ভারতীয় কসমেটোলজিস্ট যমুনা পাই জানান, মুখ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম মেনে চললে ব্রণ কম হয়। এই নিয়ম তিন ধাপে মুখ পরিষ্কার করে, প্রথমে মেইকাপ তুলে, দ্বিতীয় ধাপে সাবান মুক্ত পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করে শেষের ধাপে টোনার মাখতে হবে।

ভারতীয় ত্বকবিশেষজ্ঞ ডা. শেফালি ত্রাসি নেরুকার বলেন, “আমাদের ত্বক অম্ল-খার নিরপেক্ষ একটি অবস্থায় থাকে। ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহারে ত্বক খারীয় হয়ে যায় এবং ব্রণ তৈরি হয়।”

জীবনে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টকে যুক্ত করুন:
চামড়ায় থাকা মুক্ত আয়ন ত্বকে প্রদাহের কারণ হয়। যার ফলে ব্রণ হতে পারে। এই মুক্ত আয়নের ক্ষতি থেকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ষা করে। ত্বকে এমন ক্রিম, লোশন এবং সিরাম লাগতে হবে যেগুলোতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে।

ভারতীয় ত্বকবিশেষজ্ঞ ডা. সোমা সরকার বলেন, “অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ব্রণ নিরাময়ে সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই তবে এতে বিটা ক্যারোটিনের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে। যা ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকে থাকা মুক্ত আয়ন নিয়ন্ত্রণ করে।

দুগ্ধজাত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ:
কারও ত্বক যদি ব্রণ প্রবণ হয়ে থাকে তবে দুগ্ধজাত খাদ্য এবং প্রোটিন পাউডার ধরনের খাবার না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন থেকে ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হয় যা ব্রণের একটা প্রধান কারণ। ডা. ত্রাসি বলেন, “কেউ যদি সাত দিনের মধ্যে একবার একসঙ্গে ৫০০ মিলি লিটার দুগ্ধজাত খাদ্য খায় তার ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও দুগ্ধজাত পণ্যে হরমোন থাকে। এটাও ব্রণকে উদ্দীপ্ত করে।”

ডিজিটাল ডিটক্স:
সারাদিন সেলফোন নিয়ে থাকলে শরীরে এবং মনের উপর চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এর বাইরেও আরও অনেকভাবে সেলফোন ত্বকের ক্ষতি করে। যেমন সেলফোনের গায়ে লেগে থাকা অদৃশ্য জীবাণু ত্বকে যাওয়ার সুযোগ পায় আবার বেশি সময় গালের সঙ্গে লেগে থাকার ফলে ত্বকের লোম গ্রন্থিতে অধিক তেল জমার সুযোগ পায় যা লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণ উৎপাদন করে। তাই সেলফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

চিনি বর্জন করা:
ডা. ত্রাসি বলেন, “গবেষণায় দেখা গিয়েছে খাদ্য তালিকায় চিনির পরিমাণ কম রাখলে মুখের ব্রণ কম হয়। এমনকি বাজারে বিক্রি হওয়া ফলের ও সবজির রসেও প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে যা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এভাবে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য তারতম্য হয় ফলাফল মুখে ব্রণ বেড়ে যায়।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here